সোমবার, ২৩ এপ্রিল, ২০১২

চলছে বিজ্ঞাপণ নিশ্চুপ প্রশাসন


ওবাইদুল হক আবু চৌধুরী, উখিয়া-কক্সবাজার থেকে : বাংলাদেশের মানুষ সবচেয়ে বেশি সচেতন হলেও প্রধান প্রধান শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত মানুষকে ধুমপানে বাধ্য করাচ্ছেন বিভিন্ন ট্যোবাকো কোম্পানির হাজার হাজার কর্মীএসব কর্মীরা বিভিন্ন লোভ-লালসার প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষ সহ স্কুল কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের ধুমপানের মত বিষ পান ধরিয়ে দিয়ে জীবন বিপন্ন করার পায়ঁতারা চালিয়ে প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে
স্কুল, কলেজ, মাদ্রসা ছাত্র/ছাত্রী সহ বিভিন্ন মেধাবীরা রেহায় পাচ্ছে না ট্যোবাকো কোম্পানীর সিগারেট বিক্রেতার হাত থেকেতারা বিনা মূল্যে সিগারেট সরবরাহ দিয়ে গণহারে মানুষকে ধুমপানের প্রতি আকৃষ্ট করার ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটালেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের খাম-খেয়ালিপনার কারণে প্রতিরোধের ব্যবস্থা নিতে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি এখনওএতে আইনের শাসনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে জনমনেসরকার জনস্বাস্থ্য বিষয়ক বিবেচনায় এনে ধুমপান নিয়ন্ত্রন আইন করলেও এ আইনের কোন বাস্তবায়ন ও কার্যকারীতা নেই বললেই চলেযার দরুন অসংখ্য অভিভাবক আতংকের মধ্যে দিনাতিপাত করছেসরজমিন পরিদর্শন করে দেখা যায়, কিছু অসাধু ট্যোবাকো কোম্পানীর কর্মচারীরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে ধুমপানের মত বিষ সিগারেট বিক্রির প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে ঐ প্রতিষ্ঠানের অধীনে হাটে-বাজারে মেরি, সানমুন, গোল্ডলিপ, গোল্ডেন হিল, মেরিস, বেনসন, আবুল বিড়ি, আকিজ বিড়ি, উইলসন, ষ্টার সহ বিভিন্ন তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির এলাকা থেকে কর্মী নিয়োগ ধুমপানের প্রচার-প্রসার বৃদ্ধি করে আসছেঐসব কর্মীরা সকাল থেকে সন্ধ্যা বিভিন্ন হাট-বাজারে ও গ্রামে গঞ্জে চষে বেড়াচ্ছেতাদের টার্গেট হচ্ছে বিনা মূল্যে সিগারেট ঐ ব্রান্ডের সিগারেটের প্রতি মানুষকে আকৃষ্ট করা এবং নতুন ধুমপায়ী সৃষ্টি করে দেশ ধ্বংসের অতল তলে ডুবিয়ে দেয়াযাদের নিয়ে দেশ সূখী সমৃদ্ধ করে গড়ে তুলার স্বপ্ন দেখে এমন আগামী দিনের কর্ণধার মেধাবী ছাত্র/ছাত্রী ও যুব সমাজকে ধুমপানে আসক্ত করালেও সরকার যথাযথ কোন ব্যবস্থা নিচ্ছে নাযার ফলে হাজার হাজার মেধাবী মূখ ধুমপানের মত বিষপানে  আসক্ত হয়ে অকালে ঝরে যাচ্ছে
এ কেমন সরকার! ধুমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, ধুমপান বিষপান  বলে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল  প্রচার করে আবার তামাকজাত দ্রব্য ও বিভিন্ন ধুমপানের মত বিষপানের বিভিন্ন ট্যোবাকো কোম্পানীর বিড়ি, সিগারেট ও তামাকজাত দ্রব্যের উৎপাদনের বৈধতার লাইসেন্স দেয় যার কারণে মরণ নেশা তামাকজাত দ্রব্য কোম্পানী বেপরোয়া ভাবে গড়ে উঠে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চষে বেড়িয়ে দেশকে ধ্বংসের মূখে ধাবিত করছেএতে কি সরকার দায়ী নয়? সরকার যদি ধুমপান, মাদক ও তামাকজাত দ্রব্যের মত বিষপান প্রতিরোধের জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়ে আইন প্রয়োগ করে তাহলে ঐ সব মরণ নেশা বিষপানের লাইসেন্স দেয় কেন ? নিশ্চয়ই তাদের কাছে সরকার দূর্বল এমন প্রশ্ন সচেতন মহলেরতাই দেশ ও জাতীর স্বার্থে দেশকে উন্নত বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হলে এসব অবৈধ মরণনেশা তামাকজাত দ্রব্য ও অবৈধ কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে আরও কঠোর হলে তামাক ও মাদকজাত দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হবে এবং জাতির ভাগ্যের পরিবর্তন হবে এমন প্রত্যা

ধুমপান বাদ দেওয়ার উপায়


অনেকে বন্ধুদের ফাঁদে পড়ে বা নিজের মধ্যে বড় বড় ভাব আনার জন্য কিংবা ব্যর্থতায় ভুগে কোন না কোনভাবে সিগারেটের অভ্যাসটা তৈরী করেনব্যাপারটা কিছুদিন উপভোগ করার পর যখন বুঝতে পারেন যে কাজটা তিনি ভুল করছেন, এই অভ্যাস তার ত্যাগ করা দরকার তখন অনেক অনেক দেরী হয়ে যায়হাজার চেষ্টা করেও অভ্যাসটা ত্যাগ করা সম্ভব হয়নাআপনি যদি তাদের মত একজন হয়ে থাকুন তবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেনএই পদ্ধতিতে অনেকের কাজ হয়েছে 
মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন যে, আপনাকে অভ্যাসটা ত্যাগ করতে হবে এবং আপনি অবশ্যই সফল হবেন আর যদি মনে  করেন যে, আপনার দ্বারা অভ্যাসটা ত্যাগ করা সম্ভব হবে না, তাহলে আপনি কখনও পারবেন না
এবার আসি কাজটা কিভাবে করবেন....................
আপনি চাচ্ছেন অভ্যাসটা ত্যাগ করতে, তার মানে আপনি অভ্যাসটা ছাড়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন
ধরি, আপনি প্রতিদিন ৪০টা সিগারেট পান করেন আপনাকে মনে প্রাণে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি অভ্যাসটা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনবেনপরদিন পরিমাণটা ৩৮ -এ নামিয়ে আনুন এবং মনে মনে ঠিক করুন আপনি আজ ৩৮ টার বেশী সিগারেট পান করবেন নাএর পরদিন ৩৬টা, তার পরদিন ৩৪টা, এভাবে আস্তে আস্তে ৩২,৩০,২৮......................৪,,,,ব্যাস কাজ শেষ
আপনি সিগারেট পান করার সময়টাতে পরিবর্তন এনে কাজটি করতে পারেনযেমন : আপনি যদি ১টা সিগারেট খাওয়ার ২০ মিনিট অন্তর আরেকটি খান তবে এই সময়টাতে পরিবর্তন আনতে হবে পরদিন খাবেন ২৫ মিনিট অন্তর, এর পরদিন ৩০ মিনিট অন্তরএভাবে আপনাকে পুরো কাজটি আস্তে আস্তে শেষ করতে হবেবাকী সময় বিরক্ত লাগলে চকলেট, চুইংগাম কিংবা হালকা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার খান আশা করি আপনি এক মাসের মধ্যে এই অভ্যাস থকে মুক্তি পাবেন
অনেকে একাকীত্বের কারণে সিগারেট পান করেনএকাকী থাকলেই যে সিগারেট খাওয়া ছাড়া করার মত কোন কাজ নেই তা কিন্তু নয়যখন একাকী থাকবনে তখন সোজা কম্পিউটারের সামনে বসে পড়ুন, আর ঢু মারুন বিভিন্ন ফোরামেএকসাথে কয়কেটি ফোরাম দেখত পারেন এতে আপনার ব্যস্ততা বাড়বে, একাকীত্বের কথা আপনি ভুলে যাবেনআমার এমন ও হয় যে, কোনদিকে যে সময় পার হয়ে যায় টের ও পাইনাঅনেক সময় চা বা কফি নিয়ে যদি বসি তবে ওগুলোর কথা আমি ভুলেই যাই পরে দেখি ঠান্ডা পানি হয়ে গেছে আমি আশা করি আপনি পারবেন তো চলুন শুরু করা যাক
আমি মাদককে না বলেছি, আপনি বলেছেন তো ???

ধুমপান করা এবং পান খাওয়া


যে যাইই বলুক না কেন,ধূমপান মানুষের শুধু মাত্র আর্থিক ক্ষতিই করে না, সবচেয়ে বেশী ক্ষতি করে হল চরিত্রেরমিথ্যা যেমন সকল পাপের মা,ঠিক তেমনি ধূমপান হল সকল প্রকার চারিত্রিক অবক্ষয়ের মাআধুনিক আলেম-গন কোন কিছু না পড়েই ধূমপানের ব্যাপারে বিভিন্ন প্রকার কথা বলে থাকেনকেউ বলেন মকরুহ, আবার কেউ বলেন মকরুহ তাহরিমীএর পিছনেও একটা কারণ আছেতাহলো যখন আলেমকে প্রশ্ন করে যে,“হুজুর আমি তো তামাক পাতা পুড়িয়ে তার ধুয়া পান করি, যারা তামাক পাতা সরাসরি খায়, তাদের জন্য বিধান কি”? তখন হুজুর সাহেব বিপদে পরে যানকারণ হল তিনি নিজেই পান খান এবং সেই সাথে তামাকের পরিবর্তিত রূপ অর্থাৎ জর্দা খানতাই সঠিক কথাটি বললে তিনি নিজেও বিধান থেকে বাঁচতে পারেন না

বিজ্ঞান প্রমাণ করেছে যে,কোন অধূমপায়ী ব্যক্তি যদি ধূমপায়ী ব্যক্তির কাছে অবস্থান করে,তাহলে এমনিতেই এক সপ্তমাংশ সিগারেটের নিকোটিন অধূমপায়ীর শরীরে প্রবেশ করেতাছাড়া ধূমপানের গন্ধ অধূমপায়ীর জন্য সর্বাবস্থায় অসহনীয় বটেআসলে ধূমপান সম্পূর্ণরূপে হারামধূমপান হারাম হওয়ার কারণে কোন মহিলা যদি তার স্বামীকে ধূমপান ত্যাগ করতে বলে, এবং স্বামী যদি তা ত্যাগ না করে, তাহলে সেই মহিলা যে কোন সময় তার স্বামীকে ডিভোর্স করতে পারেএটা তার ধর্মীয় অধিকার

ভারত উপমহাদেশের জন্য পান একটি বিশেষ আপ্যায়নের সামগ্রীপানের বিষয়ে বেশি আলোচনা কোথাও না হওয়ার পিছনে কারণ একটাই,তাহলো পান ভারত উপমহাদেশের বেশিরভাগ আলেম সম্প্রদায়ের মানুষই খেয়ে থাকেএকটু গভীর চিন্তা করে আমরা দেখতে পাই যে,গাছের কাণ্ড ও পাতা খায় চতুষ্পদ প্রাণী,আর ফল খায় মানুষতবে কিছু কিছু কাণ্ড ও পাতা আছে,যা পশু ও মানুষ উভয়েই খায়; কিন্তু সেই ক্ষেত্রে মানুষ ও পশুর মধ্যে পার্থক্য হল,মানুষ খায় সেদ্ধ করে, আর পশু খায় সরাসরি বা কাঁচাসেই সকল পাতা বা কাণ্ড মানুষের জন্য কাঁচা ভক্ষণ প্রায়ই ক্ষতিকর হলেও পশুর জন্য তা অত্যন্ত কল্যাণকরআর পান নামক কাঁচা পাতাটি নির্দ্বিধায় মানুষ খেয়ে যাচ্ছে শুধুমাত্র তা-ই নয় বরং পানের সাথে জরদা নামক আরও একটি জঘন্য পদার্থ তারা খেয়ে যাচ্ছেহাদিসের তথ্যে পাওয়া যায় যে,শুধু মাত্র একটি যুদ্ধে সৈনিক-গন তাদের ক্ষুধা নিবারণের জন্য কাঁচা পাতা খেয়েই জীবন বাঁচিয়েছিলেনআমদের ভারত উপমহাদেশের কিছু বদ-অভ্যাস যুক্ত মানুষ নিয়মিত কোন ধরনের জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে লিপ্ত আছে?

পান সংক্রান্ত কোন তথ্য সাহাবী (রা:) গন খাওয়া তো দূরের কথা,কোন দিন কল্পনাও করেননিআরবের কোন দেশে আজও কারও পক্ষে প্রকাশ্যে একটা পান খাওয়ার ক্ষমতা নেইপান খাওয়ার বিধান ইসলামে বিন্দু মাত্রও থাকলে সেখানে কখনও মদের মত পানও প্রকাশ্যে খাওয়া নিষিদ্ধ থাকতো নাআমাদের এলাকার পান-খোর গন আরব দেশে অনেক সময় একটা পান ৬/৭ দিরহাম দিয়ে পর্যন্ত কিনে  প্রয়োজনে বাথরুমে যেয়ে পান খেয়ে বাহিরে বের হয়,যেমন হয় বাংলাদেশে ফেনসিডিল খাওয়ার বেলায়এই কথা সবারই জানা যে,এমন কিছু লোক আছে, যারা পানের নেশায় এতই আসক্ত যে,তারা প্রয়োজনে ভাত এক বেলা কম খাবে, কিন্তু পান তাদের চাই-ই চাই

পান খেলে মানুষের দাঁতের রঙ কুৎসিত হয়ে নষ্ট হয়ে যায়রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের জীবনে তিনি মাত্র চার বার দাঁত বের করে হেসেছিলেনআর সেই সময় সাহাবী (রা) দের মধ্যে যারা তাঁর হাসিমুখ অবস্থায় দাঁত দেখেছিলেন,তাঁরা নিজেদেরকে সৌভাগ্য-শীল মনে করতেনযাহোক অনেকে আবার পানের সাথে পচা বা মজা সুপারি খায়,যার গন্ধ পায়খানার চেয়েও বেশি খারাপহয়তো পান খাওয়া ব্যক্তি নিয়মিত এই দুর্গন্ধ যুক্ত সামগ্রী খেয়ে অভ্যস্ত হওয়ার কারণে গন্ধ উপলব্ধি করতে পারে না,কিন্তু যারা পান খায় না,তারা টের পায় যে গন্ধটি কত জঘন্যরসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন যে,“তোমাদের মধ্যে কেহ যেন দুর্গন্ধ যুক্ত সামগ্রী (পিয়াজ,রশুন ইত্যাদি) খেয়ে মসজিদে প্রবেশ না করে,যতক্ষণ পর্যন্ত সে দুর্গন্ধ মুক্ত না হয়  আর বর্তমানে কিছু নামাজি পান-সিগারেট খেয়ে মসজিদে প্রবেশ করার পর তাদের পাশে কেউ নামাজে দাঁড়ালে তাদের শ্বাস-প্রশ্বাসের সময় যে গন্ধ বের হয়,তাতে পার্শ্ববর্তী ব্যক্তির নিঃশ্বাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়তাই রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ যে ব্যক্তি মানতে পারল না,তার জন্য মসজিদে যাওয়া ঠিক নয়,যদিও সে মাওলানা উপাধি ধারি আলেম হন

আমার মনে পরে সম্ভবত ১৯৯৯ সনে পাকিস্তানের আনযার শাহ কাশ্মীরী যশোরে একটি ওয়াজ মাহফিলে বলেছিলেন যে,“পান হল একটি গাছের পাতা, আর কাঁচা পাতা খাওয়ার কথা ছাগলেরঅথচ সেই কাঁচা পাতা মানুষের খাওয়ার কোন যুক্তি নেইআর  যদি সে দাড়িওয়ালা মানুষ হয়,তাহলে ছাগলের পেটের ভিতরে থেকে বের করা পাতা মুখ বন্ধ করে চিবানোর সময় ছাগলের দাড়ি যেভাবে নড়া-চড়া করতে থাকে,তারও সেভাবেই নড়া-চড়া করে বক্তৃতাটি উর্দু ভাষায় হওয়ার কারণে যে ব্যক্তি অনুবাদ করছিলেন,সে ব্যক্তি এই অংশটুকু  বাদ রেখে অনুবাদ করেছিলেনঅতএব পান খাওয়া মোটেও কোন ভাল জিনিস নয়তাই প্রত্যেকেরই ধুম পানের মত পান খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করা উচিৎধুম পায়ী ব্যক্তি-গন তামাকের পাতা খায় পুড়িয়ে ধূয়া করে,আরা পান খাওয়া মানুষ খায় সরাসরিআমি টেন্ডারের ভিত্তিতে ১৯০৭-৮ সনে ফিনলে চা বাগানে তিন ট্রাক তামাকের পাতা সরবরাহ করেছিলামচা বাগানে তামাকের কি প্রয়োজন হয়,আমার এমন একটি কৌতুহল সৃষ্টি হলে তাদের কাছে জিজ্ঞাসা করেছিলামতারা উত্তর দিয়েছিল যে, ”কিছু পোকা  আছে,যেগুলো বিষে মরে না,সেগুলো তামাকের পাতা ভিজানো পানি দিয়ে নিধন করতে হয় তাহলে একবার চিন্তা করে দেখুন,বিষের চেয়ে অধিক শক্তিশালি বিষাক্ত হল তামাক পাতাসেই তামাক পাতাই আমাদের অনেকে গুল হিসাবে সরাসরি ব্যবহার করে,আবার কেউ জর্দা হিসাবে পানের সাথে খেয়ে থাকেঅতএব  মহাবিপদ থেকে সাবধান হন

বি:দ্রা: দূঃখের বিষয় একটিই শত চেষ্টা করেও আমার বাবা-মাকে পান খাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারিনি ।

আপনি কি ধুমপায়ী? তাহলে দেখুন ধুমপানের ৪১টি ক্ষতিকর দিক।.....শেষ পর্ব।


২১. ধুমপানের মাধ্যমে যেসব উপার্জন হয়, তা সম্পূর্ন হারামকারন, ধুমপানের ব্যবসা করা এবং এর লেনদেন সম্পূর্ন হারাম
২২. ধুমপান মানুষের অপমৃত্যু ঘটায়আন্তর্জাতিক স্বাস্হ সংস্হা তাদের প্রতিবেদন প্রকাশ করেন যে, সমগ্র পৃথীবিতে ধুমপানের কারনে যত বেশি অপমৃত্যুর ঘটন ঘটে অন্য কোন রোগ-ব্যধির কারনে তত বেশি অপমৃত্যু ঘটেনা
২৩. ধুমপানের কারনে ফুসফুসে ক্যান্সার, শরীরে তাপ, প্রদাহ, জ্বালাপোড়া ইত্যাদি দীর্ঘ মেয়াদী রোগব্যাধী দেখা যায়
২৪. ধুমপানের কারনে কন্ঠনালীতে ক্যান্সার হয়
২৫. ধুমপানের কারনে রক্তনালীগুলো দুর্বল হয় এবং অনেক সময় একজন ধুমপায়ীর রক্তের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়
২৬. এটি স্মরনশক্তি কমিয়ে দেয় এবং মনোবল দুর্বল করে দেয়
২৭. ইন্দ্রিয় ক্ষমতা দুর্বল করে; বিশেষ করে ঘ্রান নেয়া এবং স্বাদ গ্রহনের ক্ষমতা লোপ পায়
২৮. অতিরিক্ত ধুমপানের কারনে দৃষ্টিশক্তি লোপ পায়
২৯. মানুষ দুর্বল হয়ে পড়ে এবং বার বার সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়
৩০. হার্ডের সাথে সম্পৃক্ত ধমনীগুলো ব্লগ হয়ে যায়
৩১. বক্ষ ব্যাধীতে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যায়
৩২. রক্তের উচ্চ চাপের কারন হয়
৩৩. যৌনশক্তি বিলুপ্ত হয়
৩৪. হজমশক্তি কমায় এবং ধারনক্ষমতা লোপ পায়, আর তার শরীর ঢিলে হয়ে যায়
৩৫. ধুমপায়ী সব সময় দুর্বলতা অনুভব করে এবং আতঙ্কগ্রস্ত থাকে
৩৬. ধুমপানকারীর ঠোটে মুখে জিহ্বা গলনালি ইত্যাদীতে ক্যান্সার হয়
৩৭. পাকস্হলী ক্ষত হতে থাকে
৩৮. ধুমপানের কারনে যকৃত শুকিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে
৩৯. ধুমপানের কারনে মুত্রথলিতে ক্যান্সার হয় এবং মুত্রথলি যক্ষায় আক্রান্ত হয়
৪০. কিডনিতে ক্যান্সার হয়
৪১. পেশাব বিশাক্ত হয়
এতকিছুর পরও একজন জ্ঞানী লোকের জন্য ধুমপান করা উচিৎ...............?

ধুমপান এবং জনস্বাস্থ্য


ধুমপান বিষপান'- এ বাক্যটির সঙ্গে আমরা সবাই কমবেশি পরিচিতধুমপান বিষপানের সমতুল্য-এ কথা জেনেও আমরা অনেকেই এখনও ধুমপান করে যাচ্ছিএর ফলে ক্ষতি হচ্ছে নিজের দেহের, পরিবারের, সমাজের, রাষ্ট্রের এমনকি গোটা বিশ্বেরকাজেই যেসব বদঅভ্যাস এখনই ত্যাগ করা উচিত, তার মধ্যে অন্যতম হলো ধুমপান
'বিড়ি খাবি খা, মারা যাবি যা'-এ কথাটি শুনে অনেককেই হাসতে দেখা যায়আসলে কিন্তু তা অত্যন্ত সঠিক ও খাঁটি কথা বিড়ি বা সিগারেটের কুফল সম্পর্কিত বিভিন্ন গবেষণার ফলাফলের দিকে একটু নজর দিলেই ওই কথার বাস্তবতা ফুটে ওঠেবিড়ি বা সিগারেট যে মানুষকে ক্রমান্বয়ে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়, তা এখন প্রমাণিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু ১৯৮৭ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী তামাকমুক্ত দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নেয়মানুষকে ধুমপানের কুফল সম্পর্কে সচেতন করে তোলাই ওই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য লক্ষ্যে প্রতি বছর এ সংক্রান্ত শ্লোগান ঠিক করা হয়এ বছরের শ্লোগানের মূল কথা হলো, বিড়ি-সিগারেট তথা তামাকের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইনগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করতে হবে, আর তা সম্ভব হলেই জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবেআমরাও আশাকরছি প্রতিটি দেশ এ সংক্রান্ত আইন বাস্তবায়নে আরও বেশি যত্মশীল হবে
ধুমপান; মানুষের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, সংস্কৃতি তথা গোটা মানবজাতির জন্যেই এক বড় হুমকিবিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু'র রিপোর্টে বলা হয়েছে, বর্তমানে বিশ্বের প্রায় দেড়'শ কোটি মানুষ ধুমপান করেএরমধ্যে ৮০ শতাংশেরই বসবাস উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এবং ধুমপায়ীদের গড় আয়ু অধুমপায়ীদের গড় আয়ুর চেয়ে ২০ বছর কমআন্তর্জাতিক বিভিন্ন পরিসংখ্যান থেকেও এটা স্পষ্ট যে, ধুমপানের কারণে নানা জটিল রোগ দেখা দেয় অপ্রাপ্ত বয়সে মৃত্যুর একটা বড় কারণও হলো ধুমপানধুমপানের কারণে প্রতি বছর পঞ্চাশ লক্ষ মানুষ মারা যায়
বিড়ি বা সিগারেটের ধোঁয়ায় চার হাজার রাসায়নিক ও বিষাক্ত পদার্থ রয়েছেএ কারণে ধুমপান জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বাস্থ্য বিষয়ক এক গবেষেণায় দেখা গেছে, ক্যান্সার, শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগসহ অন্তত: ২৫ ধরনের রোগের সঙ্গে ধুমপানের কোন না কোনভাবে সম্পর্ক রয়েছেকিন্তু এত সব অকাট্য প্রমাণ থাকার পরও আমরা অনেকেই ধুমপান ত্যাগ করতে প্রস্তুত নইঅনেকে আবার মনে করেন, ধুমপান ত্যাগ করা আমার পক্ষে সম্ভব হবে নাআসলে এমন ধারণা সঠিক নয়আসুন আজই ধুমপান ত্যাগের পদক্ষেপ নেইদেখবেন আপনিও অন্যদের মতো সফল হয়েছেন
ধুমপান জাতীয় অর্থনীতির জন্য ক্ষতি বয়ে আনে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিড়ি ও সিগারেট কোম্পানিগুলো যে পরিমাণ কর সরকারকে দেয় তার চেয়ে কয়েক গুন অর্থ সরকারকে খরচ করতে হয় ধুমপানের কারণে সৃষ্ট নানা রোগের চিকিৎসা করার জন্যবিড়ি-সিগারেট কেনার অর্থ হলো কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে বিষ কিনে খাওয়াবিড়ি -সিগারেটের ব্যবসায় যেহেতু লাভ অনেক বেশি সে কারণে বড় বড় কোম্পানিগুলো ধুমপায়ীর সংখ্যা বাড়াতে ব্যপক তৎপরতা চালাচ্ছেএসব কোম্পানি প্রতি বছর ক্রেতা আকৃষ্ট করার জন্য এক হাজার কোটি ডলার ব্যয় করে থাকেঅবশ্য গত কয়েক দশক ধরে উন্নত দেশগুলো ধুমপান নিয়ন্ত্রণের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে পেরেছে এবং ধুমপান নিয়ন্ত্রণে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে
উন্নত দেশগুলোতে কড়াকড়ির কারণে মাদক উৎপাদন ও বিতরণের সঙ্গে জড়িত মাফিয়া চক্র আগের চেয়ে বেশি করে তৃতীয় বিশ্বকে টার্গেটে পরিণত করেছে এবং তাদের কারখানাগুলোকে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে স্থানান্তর করছেতৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তরুণদের সংখ্যা তুলনামূলক বেশি হবার কারণে তা বিড়ি ও সিগারেটের লাভজনক বাজার হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে
ধুমপান পরিবেশের জন্যও মারাত্মক ক্ষতিকর প্রতিদিন কোটি কোটি সিগারেটের ধোঁয়ায় পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে সিগারেটের কাঁচামাল তামাকের চাষও পরিবেশের জন্য হুমকি সৃষ্টি করছেতামাক গাছ মাটির এমন কিছু উপাদানকে নষ্ট করে দেয় যা অন্যান্য ফসল ফলানোর ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেএছাড়া সিগারেটের ধোঁয়া কেবলমাত্র ধুমপায়ীর জন্যই স্বাস্থ্য হানিকর নয় তা তার আশেপাশের লোকজনের জন্যও মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করেগবেষণায় দেখা গেছে, যেসব শিশুর বাবা-মা সিগারেট খান তারা অন্যদের তুলনায় দ্রুত রোগাক্রান্ত হয় এবং শারীরিকভাবে দুর্বল থাকেএছাড়া, ধুমপায়ী মায়েদের সন্তানের ওজন জন্মের সময় স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম বা বেশি হয়ে থাকে
ধুমপান এক ধরনের নেশাবিড়ি বা সিগারেটে রয়েছে মারাত্মক বিষাক্ত উপাদান নিকোটিনযেমনটি আগেই বলেছি, সিগারেটের বিষাক্ত উপাদান নিকোটিনকে খুনির সঙ্গে তুলনা করা হয়বিড়ি বা সিগারেট মানুষকে সাথে সাথে হত্যা না করে আস্তে আস্তে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেয়
যারা সিগারেট খায় তাদের মাদকাসক্ত হবার আশংকা বেশি থাকেকাজেই সন্তানকে বিড়ি বা সিগারেট থেকে দূরে রাখার অর্থ হলো মাদকের কাছ থেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখাতবে সন্তানরা তখনি ধুমপান না করার উপদেশ শুনবে যখন তার বাবা নিজে ধুমপান থেকে বিরত থাকবেধুমপান না করলে নানা সামাজিক সমস্যা থেকেও নিজেকে দূরে রাখা যায়কাজেই নিজেদের স্বার্থেই আমাদেরকে সচেতন হতে হবে এবং যারা এখনও ধুমপানে আসক্ত হয়নি তাঁরা যাতে আর কখনো আসক্ত না হয়,সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো ইরানেও প্রতিবছর আন্তর্জাতিক তামাকমুক্ত দিবস উদযাপিত হয়ইরানে শুধু একদিন নয় এক সপ্তাহজুড়ে এ বিষয়ে সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়অবশ্য ধুমপানের মতো মারাত্মক সমস্যা সমাধানের জন্য একদিন, দুইদিন বা এক সপ্তাহর কর্মসূচি যথেষ্ট নয়এ জন্য বছরজুড়ে চেষ্টা চালাতে হবেদেশ ও সমাজকে সচেতন করে তুলতে ধুমপানের কুফল সম্পর্কে হাতে কলমে শিক্ষা দিতে হবেগণমাধ্যমে সচেতনতামূলক অনুষ্ঠান প্রচার করতে হবেশিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ বিষয়ে আলোচনা হতে হবেবিদ্যমান আইনগুলো কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে
ধুমপানমুক্ত বিশ্ব গড়ে তুলতে সবাইকে সোচ্চার হতে হবেআমরা নিজেরা যারা ধুমপান করছি তাদেরকে আগে ধুমপান ত্যাগ করতে হবেধুমপান ত্যাগ করা কঠিন কোন বিষয় নয়এ জন্য নিজের ইচ্ছে শক্তিটাই যথেষ্টআসুন আজই ধুমপান ত্যাগে পদক্ষেপ নেইমহতি এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে এক মুহুর্তও বিলম্ব করা উচিত হবে না  #

তেহরান রেডিও/এসএ/এআর/৩১-১১