অনেকে বন্ধুদের ফাঁদে পড়ে বা নিজের মধ্যে বড় বড় ভাব আনার জন্য কিংবা ব্যর্থতায় ভুগে কোন না কোনভাবে সিগারেটের অভ্যাসটা তৈরী করেন। ব্যাপারটা কিছুদিন উপভোগ করার পর যখন বুঝতে পারেন যে কাজটা তিনি ভুল করছেন, এই অভ্যাস তার ত্যাগ করা দরকার তখন অনেক অনেক দেরী হয়ে যায়। হাজার চেষ্টা করেও অভ্যাসটা ত্যাগ করা সম্ভব হয়না। আপনি যদি তাদের মত একজন হয়ে থাকুন তবে নিচের পদ্ধতি অনুসরণ করতে পারেন। এই পদ্ধতিতে অনেকের কাজ হয়েছে।
মনে প্রাণে বিশ্বাস করুন যে, আপনাকে অভ্যাসটা ত্যাগ করতে হবে এবং আপনি অবশ্যই সফল হবেন । আর যদি মনে করেন যে, আপনার দ্বারা অভ্যাসটা ত্যাগ করা সম্ভব হবে না, তাহলে আপনি কখনও পারবেন না।
এবার আসি কাজটা কিভাবে করবেন....................
আপনি চাচ্ছেন অভ্যাসটা ত্যাগ করতে, তার মানে আপনি অভ্যাসটা ছাড়ার পথে অনেক দূর এগিয়ে গেছেন ।
ধরি, আপনি প্রতিদিন ৪০টা সিগারেট পান করেন । আপনাকে মনে প্রাণে দৃঢ় সিদ্ধান্ত নিতে হবে যে, আপনি অভ্যাসটা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনবেন। পরদিন পরিমাণটা ৩৮ -এ নামিয়ে আনুন এবং মনে মনে ঠিক করুন আপনি আজ ৩৮ টার বেশী সিগারেট পান করবেন না। এর পরদিন ৩৬টা, তার পরদিন ৩৪টা, এভাবে আস্তে আস্তে ৩২,৩০,২৮......................৪,৩,২,১,০। ব্যাস কাজ শেষ।
আপনি সিগারেট পান করার সময়টাতে পরিবর্তন এনে কাজটি করতে পারেন। যেমন : আপনি যদি ১টা সিগারেট খাওয়ার ২০ মিনিট অন্তর আরেকটি খান তবে এই সময়টাতে পরিবর্তন আনতে হবে । পরদিন খাবেন ২৫ মিনিট অন্তর, এর পরদিন ৩০ মিনিট অন্তর। এভাবে আপনাকে পুরো কাজটি আস্তে আস্তে শেষ করতে হবে। বাকী সময় বিরক্ত লাগলে চকলেট, চুইংগাম কিংবা হালকা স্ন্যাকস জাতীয় খাবার খান ।আশা করি আপনি এক মাসের মধ্যে এই অভ্যাস থকে মুক্তি পাবেন ।
অনেকে একাকীত্বের কারণে সিগারেট পান করেন। একাকী থাকলেই যে সিগারেট খাওয়া ছাড়া করার মত কোন কাজ নেই তা কিন্তু নয়। যখন একাকী থাকবনে তখন সোজা কম্পিউটারের সামনে বসে পড়ুন, আর ঢু মারুন বিভিন্ন ফোরামে। একসাথে কয়কেটি ফোরাম দেখত পারেন । এতে আপনার ব্যস্ততা বাড়বে, একাকীত্বের কথা আপনি ভুলে যাবেন। আমার এমন ও হয় যে, কোনদিকে যে সময় পার হয়ে যায় টের ও পাইনা। অনেক সময় চা বা কফি নিয়ে যদি বসি তবে ওগুলোর কথা আমি ভুলেই যাই । পরে দেখি ঠান্ডা পানি হয়ে গেছে । আমি আশা করি আপনি পারবেন । তো চলুন শুরু করা যাক ।
আমি মাদককে না বলেছি, আপনি বলেছেন তো ???
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন